সরকারি চাকরির আবেদন ফর্ম এর মূল্য বৃদ্ধি এবং কোন গ্রেডে কত নির্ধারণ করা হয়েছে সেটি জানতে পারবেন এখানে!



সরকারি চাকরির ফর্ম এর মূল্য আগের থেকে বৃদ্ধি পেয়েছে। চাকরি প্রত্যাশী লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী এই ফর্ম এর মূল্য ম্যানেজ করতে হিমশিম খাচ্ছে। পূর্বে সরকারি চাকরির ফর্ম এর মূল্য কম থাকায়  খুব বেশি চিন্তা না করে বেকার শিক্ষার্থীরা তাদের ইচ্ছা অনুযায়ী বিভিন্ন পদে আবেদন করত। কিন্তু বর্তমানে সরকারি চাকরির ফরমের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় ইচ্ছা অনুযায়ী বিভিন্ন পদে আবেদনের ক্ষেত্রে একটু সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। অনেক সময় দেখা যায় শিক্ষার্থীরা পছন্দ না থাকা সত্বেও আশেপাশের বন্ধুদের কারণে বিভিন্ন পদে আবেদন করে থাকেন। পরবর্তীতে যখন এক্সামের সময় আসে তখন নিম্নগ্রেডের চাকরি হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অনুপস্থিত থাকেন। তাই প্রত্যেক শিক্ষার্থীর পছন্দ অনুযায়ী বিভিন্ন পদে আবেদন করার পরামর্শ রইলো।

সরকারি চাকরির ফরম এর মূল্য দেখে চাকরিটির গ্রেড কত এটি খুব সহজে বুঝতে পারবেন। তার জন্য আপনাকে নিম্নের কয়েকটি তথ্যগুলো মনে রাখতে হবে। 

২২ সেপ্টেম্বর ২০২২ অর্থ মন্ত্রণালয় কর্তৃক যে পরীক্ষার ফি নির্ধারণ করা হয়েছে সেই অনুযায়ী নিম্নে বর্ণনা করা হলো। সব ক্ষেত্রে নিম্নের নিয়ম প্রযোজ্য নয়।


আপনার আবেদন ফর্মের মূল্য যদি ৬০০ টাকা হয়:

আপনি যে পদে আবেদন করছেন সেই পদে ফর্মের মূল্য যদি ৬০০ টাকা হয়। তাহলে আপনি অবশ্যই নবম গ্রেড বা তদূর্ধ্ব কোন গ্রেডে জন্য আবেদন করছেন। এক্ষেত্রে অবশ্যই টেলিটক সর্বোচ্চ ১০% ফি কেটে রাখতে পারবে। ছয়শত টাকার ১০% হচ্ছে ৬০ টাকা। হিসাব অনুযায়ী সর্বমোট টাকা হচ্ছে ৬৬০ টাকা। এই রেঞ্জের মধ্যে পিএসসি নন ক্যাডার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পূর্বে পিএসসি নন ক্যাডার এবং ৯ম গ্রেডের আবেদন ফর্ম এর ফর্ম এর মূল্য ছিল ৫০০ টাকা। সেখানে ১০০ টাকা বাড়িয়ে ৬০০ টাকা  করা হয়েছে। সার্ভিস চার্জ ব্যতীত। নবম গ্রেডের পরবর্তী কোন সার্কুলার দিলে দেখা যাবে যে তারা কত চার্জ করে। 


আপনার আবেদন ফর্মের মূল্য যদি ৫০০ টাকা হয়: 

১০ গ্রেডের চাকরির জন্য আবেদন ফরমের মূল্য ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে। অতিরিক্ত ১০% সার্ভিস চার্জ স্বরূপ কেটে নিতে পারবেন বাংলাদেশের সরকারি মোবাইল কোম্পানি টেলিটক। সেক্ষেত্রে ১০ গ্রেড এর জন্য একটি আবেদন ফরমের সর্বসাকুল্য মূল্য ৫৫০ টাকা হতে পারে। পূর্বে এই গ্রেডের আবেদন ফর্ম এর জন্যও একই ফি নির্ধারণ করা ছিলো। ১০ম গ্রেডের জন্য আবেদন ফি এর কোন পরিবর্তন করা হয়নি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে।

অনেক সময় শিক্ষার্থীরা শেষ সময়ে আবেদন শুরু করতে গিয়ে বিজ্ঞপ্তি পড়ার জন্য সময় বের করতে পারেন না। বিজ্ঞপ্তি না পড়ে আবেদন করার কারণে কোন গ্রেডের জন্য আবেদন করেছেন সেটি আর জানা হয়ে ওঠেনা। তাই ফর্ম এর মূল্য দেখে যদি চাকরির গ্রেড আইডেন্টিফাই করা সম্ভব হয় তাহলে ব্যাপারটা অনেক সুন্দর হয়।


আপনার ফর্ম এর মূল্য যদি ৩০০ টাকা হয়: 

৪০০ টাকা কোন ফর্মের মূল্য নির্ধারণ করা হয়নি। সরকারি চাকরি আবেদন এর ফরমের মূল্য ৩০০ টাকা হলে আপনি বুঝে নিবেন চাকরিটি ১১ ও ১২ তম গ্রেডের। ৩০০ টাকা এর পাশাপাশি টেলিটক কর্তৃক নির্ধারিত ১০% চার্জ  হিসেব করলে আরো ৩০ টাকা বৃদ্ধি পায়। ফলে ৩৩০ টাকা হয়, ১১ তম ও ১২ তম গ্রেডের একটি ফর্মের মূল্য।


সরকারি চাকরির আবেদন ফরমের মূল্য যদি ২০০ টাকা হয়:

২০০ টাকা মূল্যে চারটি গ্রেডের সরকারি চাকরির আবেদন ফরম ক্রয় করা যাবে। তার মধ্যে রয়েছে 

১৩ তম গ্রেড, 

১৪ তম গ্রেড, 

১৫ তম গ্রেড এবং 

১৬ তম গ্রেড। 

এরেঞ্জে শূন্য পদের পরিমাণ অনেক বেশি এবং চাকরির এপ্লিকেন্টও অনেক বেশি। পূর্বে এ সকল গ্রেডের ফর্ম এর মূল্য ছিল ১০০ টাকা। টেলিটকের চার্জ সহ ফর্মের মূল্য ছিল ১১২ টাকা। সেখানে দ্বিগুণ বৃদ্ধি করে ২০০ টাকা করা হয়েছে। এখানে টেলিটক যদি ১০% চার্জ করে তাহলে ২০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে সর্বমোট ২২০ টাকা হয়। 


সরকারি চাকরির আবেদন ফরমের মূল্য যদি ১০০ টাকা হয়: 

এই রেঞ্জে চারটি গ্রেড অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে 

১৭ তম গ্রেড, 

১৮ তম গ্রেড, 

১৯ তম গ্রেড এবং 

২০ তম গ্রেড।

১০০ টাকা এর সাথে টেলিটকের ১০% চার্জ যোগ করলে সর্বমোট ১১০ টাকা হয়। পূর্বে এ সকল গ্রেডের চাকরির ফরমের মূল্য ছিল ৫০ টাকা। টেলিটক কর্তৃক নির্ধারিত চার্জ সহ সর্বমোট মূল্য ছিল ৫৬ টাকা।


বলে রাখা ভালো যে সকল চাকরির আবেদনের ক্ষেত্রে উপরোক্ত নিয়ম প্রযোজ্য নয়। পদের নাম উল্লেখ করে স্পেসিফিকলি আলোচনা করতে পারলে সব থেকে সুন্দর হতো। যেমন মনে করেন অডিটর এর আবেদন করতে আগে লাগতো ১১২ টাকা। অডিটর ১১ তম গ্রেডের অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু বর্তমানে সেই অডিটর পদে আবেদন করতে হলে আপনাকে ৩৩৬ টাকা প্রদান করতে হবে।

পুলিশের SI পদে আবেদন করার জন্য পূর্বে আবেদন ফরমের মূল্য ছিল ৩০০ টাকা। বর্তমানে পুলিশের স্থায়ী পদে আবেদন করতে হলে আপনাকে ফর্মের মূল্য হিসেবে ৫০০ টাকা প্রদান করতে হবে। শুধু তাই নয় ১০% চার্জ যোগ করলে সর্বমোট ৫৫০ টাকা প্রদান করতে হবে।

তাই সরকারি চাকরি প্রার্থীদের এই মুহুর্তে আবেদন ফরম ক্রয় করার ক্ষেত্রে একটু সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। কিছু নির্দিষ্ট পদের জন্য যথাযথ প্রস্তুতি নিয়ে সেই পদের আবেদন ফরম ক্রয় করলে পরীক্ষায় উপস্থিতির সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে এবং অনুপস্থিতির সংখ্যা কমে যাবে। তাই প্রয়োজন থেকে অতিরিক্ত আবেদন করা থেকে বিরত থাকলে অর্থ অপচয় রোধ হবে। সবাই ভালো থাকবেন! সবাইকে ভালো রাখার চেষ্টা করবেন! ধন্যবাদ!  

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url